অন্ধকারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার!

আন্তর্জাতিক প্রবাস লিড নিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার ব্যাপারে দু’দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের মিটিংয়ে অনেকখানি এগিয়ে গেলেও আবারো অন্ধকারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও শেষ মুহূর্তে মালয়শিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফরের চতুর্থতম বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার কারণে শ্রম বাজারটি ঘিরে চলছে নানা আলোচনা।

বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত হবার ক্ষেত্রে ধোঁয়াশা আরো বাড়ল। শ্রমিক নেয়ার দিনক্ষণ নির্ধারণের লক্ষ্যে দুই দেশের যৌথ কমিটির পূর্বনির্ধারিত রোববারের বৈঠক স্থগিত করে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান ভারত সফরে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকে তারই মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিলো।

এই বৈঠকের পরবর্তী সম্ভাব্য কোনো সময় দেয়নি কুয়ালালামপুর। এ কারণে আবারও ঝুঁলে যাচ্ছে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহীদুল ইসলাম বলেছেন, শিঘ্রই পুনরায় বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হবে। আলোচনার মধ্য দিয়ে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হবে।

বৈঠক বাতিলের বিষয়ে ঢাকায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ কারণেই বৈঠকটি আপাতত স্থগিত হয়েছে। শিগগিরই বৈঠকের তারিখ পুনর্নির্ধারণ হবে বলে তারা আশা করছেন।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে গণ্য করা হয় মালয়েশিয়াকে। এ সম্ভাবনাময় বাজারটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই চলছে জটিলতা।

সরকারি-বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি প্লাস) ২০১৭ ও ২০১৮ সালে প্রায় পৌনে ৩ লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যান। সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হলেও কর্মীপ্রতি সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয় এজেন্সিগুলো।

একটি সংঘবদ্ধচক্রের অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার কারণে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ করে দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

এরপর তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় বৈঠক করেও শ্রমবাজারটি চালু করতে পারেননি। এরপর ৩১ অক্টোবর ঢাকায় দু’দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ৬ নভেম্বর মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ। মন্ত্রীর বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, অভিবাসন ব্যয় কমাতে দুই দেশ একমত। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের দেশ ছাড়ার আগেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। অধিক সংখ্যায় রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে। দুই দেশের মধ্যে যেসব আলোচনা হয়েছে, তা চূড়ান্ত করতে ২৪ ও ২৫ নভেম্বর জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ ও মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে এই বৈঠকের পর শ্রমবাজার নিয়ে যতটুকু আলো সঞ্চার হয়েছিল তাও এখন নিভু নিভু করছে। আশা-নিরাশার দোলাচলে সম্ভাবনার বাজারটির ভবিষ্যৎ এখন যেন অনিশ্চিত।

অনৈতিকভাবে শ্রমিক রপ্তানির ব্যবসা পরিচালনায় যুক্ত একাধিক সিন্ডিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কালো মেঘ বেড়েছে। আর এদিকে দুই দেশের কুটনীতিতে এ দীর্ঘ সূত্রিতায় লোভনীয় শ্রমবাজারটি যেন হাতছাড়া না হয়ে যায় সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রবাসীরা মনে করেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অব্যাহত কুটনৈতিক তৎপরতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হতে পারে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের হাল হকিকত। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করছেন ঠিকই। কিন্তু নানা কারণে আবার শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হচ্ছে না। অনেকে বলছেন, দেশটিতে অবৈধ রয়েছেন, প্রতারণার শিকার হয়ে তারা বৈধ হতে পারেননি। তাদেরকে বৈধ করার জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

বিগত মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দিতে তিনটি ভেন্ডর কোম্পানির মাধ্যমে চালু করেছিল রি-হিয়ারিং প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ প্রবাসী বৈধ হওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এ প্রোগ্রামে নাম ও বয়স জটিলতা এবং প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বৈধ হতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *