নিউইয়র্কের এক নার্সিং হোমেই ৯৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক সাবলিড
অনলাইন ডেস্ক : নভেল করোনাভাইরাসের মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি নার্সিং হোমেই ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ম্যানহাটনের ইসাবেলা জেরিয়াট্রিক সেন্টারে এই সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শুক্রবার ৭০৫ শয্যার হোমটির কর্মকর্তারা জানান, কোভিড-১৯ শনাক্তের পর ৪৬ বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ভাইরাস সংক্রমণে সন্দেহভাজন আরও ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এদের কেউ কেউ নার্সিং হোমে আবার কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মারা গেছেন। এক জায়গায় এতজনের মৃত্যুকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়েছেন সেখানকার মেয়র বিল ডে ব্লাসিও।

করোনাভাইরাসের মহামারিতে সারা বিশ্বেই আবাসিক স্থানগুলোতে সংক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সবচেয়ে দুর্গত এলাকাগুলোর একটি নিউইয়র্ক। সেখানে এই মহামারিতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, সেখানে মারা যাওয়া প্রতি ২০ জনের মধ্যে ১৯ জনই মহামারিতে মারা যাচ্ছেন।

ম্যানহাটনের ইসাবেলা জেরিয়াট্রিক সেন্টারে ৯৮ জন মারা যাওয়ায় মরদেহ রাখতে রেফ্রিজারেটর ট্রাকের অর্ডার দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নার্সিং হোমটির মুখপাত্র অড্রে ওয়াটার্স এক ইমেইল বার্তায় বলেছেন, ‘নিউইয়র্কের অন্য নার্সিং হোমগুলোর মতো প্রাথমিকভাবে ইসাবেলারও বাসিন্দা ও কর্মীদের সংক্রমণ দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। এতে আমাদের আক্রান্ত ও লক্ষণ প্রকাশ পাওয়াদের শনাক্তের সামর্থ্য ব্যাহত হয়। তা সত্ত্বেও আমরা কারও মধ্যে লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত আলাদা করে ফেলেছি।’

এছাড়া ইসাবেলা নার্সিং হোমটি কর্মী সংকটের মুখে পড়ে বাইরে থেকে কর্মী আনতে বাধ্য হয়। প্রথমদিকে কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এসব সংকট কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র  অড্রে ওয়াটার্স।

নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ২৩৯টি নার্সিং হোমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টিতে ৪০ বা তারও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ম্যানহাটনের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেন, ‘এখন অন্তত বলা যাচ্ছে যে নার্সিং হোমের অচলাবস্থা চলবে না। হয়তো ভালো কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’ উল্লেখ্য, এর আগে ম্যাসাচুসেটসের আরেকটি নার্সিং হোমে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *